بِسۡمِ اللهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِ
মহান আল্লাহ তাঁর আসীম দয়ায় মানুযকে তার জিবনের উন্নতি এবং আবনতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। যে সমস্ত কাজ মানুযের জিবনকে উন্নত করে তার নাম আমলে সালেহ বা নেকীরকাজ। আর য়ে সমস্ত কাজে মানুযের জীবন অবনতি বা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তা হলো মা'ছিওত বা গুনাহর কাজ।
মানুযের কর্মই মানুষকে উন্নত বা ধ্বংস করে ।এতে ঈমানের প্রশ্ন আসে না । কোন অমুসলমানেও যদি জিবনে ভাল কাজ করে, তবে দুনিয়ার জিবনে উন্নত হয়ে যায়। কারন আল্লাহ্ পাক তাকে তার ভাল কাজের বিনিময় দুনিইয়ার জিবনেই দিয়ে থেকেন। পরকালে তার জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেননা । অপর মুমিনবান্দাহ নেক আমল বা ভাল কাজের বিনিময় আল্লাহ দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় জগতেই দিয়ে থাকেন।
আমল সালেহ-এর নমুনা বা প্রক্তি নবী- রাসুলদের মাধ্যমেই আল্লাহ পাক তুলে ধরেছেন ।আল্লাহ নবীদেরকে আমলে সালেহ্-এর প্রকৃত শিক্ষা দিয়েছেন তাঁদেরকে সালেহিন্দের শিক্ষক করে পাঠিয়েছেন । তাই নবী- রাসুলগনের আমলই হলো আমলে সালেহ-এর প্রকৃত নমুনা বা মিছাল। একজন মু'মিন তার জিবনের ক্রিয়া-কর্মকে নাক আমলে পরিণত কড়তে পারে তখনই, যখন সে সত্যিকার অর্থে নবী-রাসুলদের পথ ও পদ্বতিকে অনুসরণ করবে, পূর্ণ আস্থা ও ইয়াকিনের সাথে নবী-রাসুলদের উপর ঈমান আনতে সক্ষম হবে। আর এই ঈমানের পরিপূর্ণ দিক 'নবী আল্লাহ্র প্রেরিত পুরুয' এতটুকুতেই সীমাদ্ধ নয় বরং নবীর সম্পুর্ণ গুণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে খোদা প্রদত্ব তাঁর সকল বিশেযত্বের প্রতিও পূর্ণ ঈমান ও আস্থা স্থাপন করতে হবে।তবেই একজন মুমিনের ঈমানে পরিপূর্ণতা আর্জিত হবে । আর প্রক্ত পক্ষে নবীদের দ্বারা এক আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপন হয় বলেই নবী হলেন ঈমানের মূল।
ঈমান ও ইয়াকীনের সাথে নেক আমল বা ভাল কাজ করলে মানুযের আত্মার উন্নতি হয়, আন্তরে শান্তি আর্জিত হয় এবং দিলের অন্ধকার দূর হয়। যার আন্তর যত স্বচ্ছ সে-ই তত সফলকাম। তাই নেকীর দ্বারা মানুসের রূহে যে সুগন্ধ আসে মরণের পরে সেটাই হয় প্রথম মুক্তির কারণ। অপরদিকে মন্দ কাজের দ্বারা মানুষের রূহে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় ।আর এটাই হয় মানুযের পরকালের জীবনের ধ্বংসের কারণ।
মানুযের মুক্তির পথেয়, সকল নেক কাজের উপদেশ এবং ধ্বংসের কারণ, সমস্ত মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার নছিহত কেবল অন্তর দ্বারাই অর্জিত হয় । তাই দিল বা অন্তরের সংশোধনীই মানুযকে প্রক্ত সংশোধনী । অপর কথায় রূহ বা আত্মার সংশোধনীই মানুযের উন্নতির কারণ ও মুক্তির অবলম্বন । দিলের এই সংশোধনীই অর্জনের শিক্ষাকে সালেহীনদের ভাযায় বলা হয় ইলমে তাসাউফ।