জীবনের পরে মৃত্যু এক আনিবার্য বিষয়। মানুষের বেঁচে থাকা বা জীবনের গতি বহমান থাকে কেবল সম্ভাবনামাত্র । রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ- ''তোমরা বেশী বেশী সেই মৃত্যুর কথা স্মরণ কর , যা মৃত্যু তোমাদের দুনিয়াবী স্বাদ বিনষ্ট করে দেয় ।

জীব, উদ্ভিদ ও জড় কণ্ঠে মহানবী (সঃ)- এর শুভাগমন বার্তা আল্লামা ফুলতালী ছাহেব কিবলাহ অনুবাদঃ মুহাম্মাদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী

 সাওইয়াদ ইবনে কারিব –এর ঘটনা
সাওয়াদ বিন কারিব বলেন, এক জীন আমার অনুগত চিল। একদিন আমি ঘুমন্ত ও জাগ্রত আবসস্থার মধ্যবর্তী আবসস্থায় আছি। এমন সময় ঐ জীন পা দিয়ে আমাকে আঘাত করে বলল, হে সাওয়াদ ইবনে কারিব ! উঠো, আমার কথা শুনো এবং বুঝো। নিঃসন্দেহে ল্যাই বিন গালীবের বংশে নবী প্রেরিত হয়েছেন এবং আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আহ্বান করছেন। আমি বললাম, আমাকে শুয়ে থাকতে দাও ।আমি শুয়ে থাকলাম এবং সে তিন বার অনুরূপ বলল।আমি মনে করলাম, এটা আমার আত্মিক পরীক্ষা। আমি অটনীর উপরে আরোহণ করে মদীনা শরীফে-(ইমাম বায়হাকী (র)-এর বর্ণনা মতে-মক্কাশরীফ)এলাম। তখন লোকজন মহানবী(সঃ)-কে ঘিরে রেখেছিলেন,এক বর্ণনায় আছে তাকে কেশের ন্যায় ঢেকে রেখেছিলেন। রাসুল(সঃ) আমাকে দেখে বললেন, স্বাগতম হে সাওয়াদ বিন কারীব! আমি গানি, তুমি কেন এসেছ। আমি ব্ললাম,ইয়া রাসুলাল্লাহ (সঃ) আমার ঘটনাটি আপনাকে শুনাই। তিনি বললেন,শুনাও।আমি কবিতার ভাষায় বললাম------------------অথাৎ রাতে আমি নিদ্রা যাওয়ার পর আমার কাছে কে যেন আসে। আমি যা বলছি, তাতে আমি মিথ্যাবাদী নই।
তিন রাত্রি অনুরূপ ঘতে।তিনি রাতেই আওয়াজ হয় লুয়াই বিন গালীবের বংশে তোমার কাছে নবী এসেছেন। এরপর আমি আমার আবস্থা বর্ণনা করলাম এবং এই কবিতা পাঠ করে ঈমান আনলাম-------------------আথাৎ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ চাড়া কোন রব নেই।আপনি সকল আদৃশ্য সম্পর্কে নিরাপদ(অবগত)।আল্লাহ্‌র কাছে ওসীলা গ্রহণের জন্য সকল রাসুলগণের চেয়ে আপনিই উত্তম। হে পবিত্র ও সম্মানিত লোকের বংশধর, হে সর্বোত্তম রাসুল। আপনি যা নিয়ে এসেছেন,তা সম্পর্কে আমাদেরকে নির্দেশ দিন...।যে দিন কোন সুপারিশকারী থাকবেন না, তখন আপনি আমার সুপারিশকারী হবেন।মহানবী(সঃ)ও সাহাবীগণ এটা শুনে খুবই আনন্দিত হলেন। এমনকি আনন্দের চিহ্ন মহানবী(সঃ)-এরচেহারা মুবারকে ফুটে উঠল!তাঁর মৃদু হাসির ফলে তাঁর দাঁত মুবারক দেখা গিয়েছিল। মহানবি(সঃ)বললেন -হে সাওয়াদ,তুমি সফলকাম।
আব্বাস বিন মুরাদিসের ঘটনা
মুরাদিসের--নামক এক দেবতা চিল। মুরাদিস মৃত্যুর সময় তাঁর ছেলে আব্বাসকে বলে গেল,তুমি এর পূজা করবে। এটা তোমার উপকার করবে। এক দিন সে এর পাশে ছিল। এমন সময় দেবতার বভিত্র থেকে আওয়াজ এল-''তুমি কুরাইশদের সকল গোত্রকে বলে দাও, দামার ধ্বংস হয়ে গেছে। আহলে মসজিদ(মুসলমানগণ)সফল হ্যেছে।দামার নিপাত গিয়েছে।দির্ঘদিন পর্যন্ত তাঁর পূঁজা ক্রাহ্যেছে, নবী মুহাম্মাদ(সঃ)এর প্রতি সালাত পেশ করার পূর্বে(আথাৎ)তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে)এবং মরিয়ম -পুত্র ঈসা(আ)-এর পর তিনি(মুহাম্মাদ(সঃ) কুরাইশ বংশ হতে এসেছেন।তিনি সৎপথ প্রাপ্ত আব্বাস বলেন, আমি আমার কওম বনী হারিসাকে সাথে নিয়ে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলাম। রাসুল (সঃ) আমাকে দেখে হেসে বললেন, আব্বাস, তুমি ইসলামের দিকে কিভাবে এলে? আমি তাকে ঘটনা বর্ণনা করলাম।
মাযিন ইবনে গাসুনা-এর ঘটনা
মাযিন বিন গাসুনা ব্লেন।আমি আম্মানে এক দেবতার খাদিম ছিলাম। তাঁর নাম ছিল 'মাদির ইয়াসির'।আমি একদিন তাঁর সামনে পূজা পেশ করলাম।তখন মূর্তির অভ্যন্তর হতে একটি আওয়াজ এল,যার বিষয়বস্তু হল,হে মাযিন,শুন,তা হলে আনন্দিত হবে।কল্যাণ প্রকাশিত হয়েছে, মন্দ ঢাকা পড়েছে, মহান আল্লাহ্‌র ধর্ম নিয়ে মুদার গোত্রে নবী প্রেরিত হইয়েছেন।সুতরাং পাথরের উপাসনা পরিত্যাগ কর।তা হলে জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড (সাকার) হতে নিরাপদ থাকবে । এ আওয়ায শুনে আমি খুবই চিন্তিত হলাম । এর পর আরেক বার পূজা দিলাম ।তখন আওয়াজ এলঃ''আমার দিকে এস, আমার কথা শুন। এটা আর অজ্ঞতা নয় যে, ইনি হচ্ছেন আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসুল।সত্য অবতীর্ণ হয়েছে। ঈমান গ্রহণ কর।তা হলে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা হতে রক্ষা পাবে, যর ইন্ধন হচ্ছে বড় বড় পাথর।''আমি তা শুনে এত সন্দেহে পতিত হলাম যে,এক লোক হিজায থেকে এলে আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। সে জবাব দিল, আমাদের এখানে এক লোক আর্বিভূত হয়েছেন, যাঁর নাম আহমাদ (তাঁর)কাছে যে আসে, তাকেই তিনি ব্লেন...(আল্লাহর প্রতি আহ্বানকারীর ডাকে তোমরা সাড়া দাও)আমি বুঝলাম, ইনিই সেই লোক যার সুসংবাদ আমাকে দেয়া হ্যেছে।তখন আমি ঐ মুর্তি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলাম এবং রাসুল(সাঃ)এর খিদমতে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলাম। (এ হাদীসকে হাফিযে হাদীসগণ ...বলেছেন)

উমর(রা)-এর ঘটনা
ইমাম হলবী (র)হজরাত উমর(রা)হতে এক বর্ণনা উপস্থাপন করেন। হযরাত উম্র(রা)বলেছেন,একদিন আমি কুরাইশদের এক গত্রের কাছে বসা ছিলাম। গোত্রটি আলো যুরাইহ নামে পরিচিত ছিল।এমন সময় একটি গো-বৎস যবেহ করা হল।তখন আমি সেই যবেহকৃত গরুর পেট থেকে আওয়ায বের হতে শুনলাম-...''হে আলে যুরাইহ। একটি সফল সংবাদ এসেছে। এক আহ্বানকারী বিশুদ্ধ ভাষায় ‍আহ্বান  করছেন। তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আল্লাহ্‌ চাড়া কোন মাবুদ নেই ।''যুরাইহ দ্বারা এখানে যবেহকৃত গরুর বাচ্চা বুঝানো হ্যেছে।ইমাম বুখারী(র)বলেন, আওয়ায এসেছিল এভাবে-
দ্ধারা চামড়া  جلي এবং يجليح-امرنجيحرجل  فصيحيقولڵااله الله
 চ